এসডিজি হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goals) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রহ রক্ষা এবং সকলের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ১৭ টি লক্ষ্যের একটি সেট।
এই লক্ষ্যগুলো হল:
* দারিদ্র্য বিমোচন: সর্বত্র সকল ধরণের দারিদ্র্যের অবসান ঘটানো।
* ক্ষুধা নিবারণ: ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, পুষ্টি উন্নত করা এবং টেকসই কৃষির প্রচার করা।
* সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতা: সকল বয়সের সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থতা নিশ্চিত করা।
* মানসম্পন্ন শিক্ষা: সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সকলের জন্য আজীবন শেখার সুযোগ প্রচার করা।
* লিঙ্গ সমতা: লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন করা।
* পরিষ্কার পানি ও স্যানিটেশন: সকলের জন্য পানি ও স্যানিটেশনের প্রাপ্যতা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
* সুলভ ও পরিচ্ছন্ন শক্তি: সকলের জন্য সুলভ, নির্ভরযোগ্য, টেকসই এবং আধুনিক শক্তির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
* ভালো কাজ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং সকলের জন্য ভালো কাজ প্রচার করা।
* শিল্প, উদ্ভাবন এবং অবকাঠামো: স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই শিল্পায়ন প্রচার করা এবং উদ্ভাবনের প্রসার ঘটানো।
* অসমতা হ্রাস: দেশগুলির মধ্যে এবং দেশের অভ্যন্তরে অসমতা হ্রাস করা।
* টেকসই শহর এবং সম্প্রদায়: শহর এবং মানব বসতিগুলিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক এবং টেকসই করা।
* দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন: টেকসই ভোগ এবং উৎপাদন পদ্ধতি নিশ্চিত করা।
* জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
* জলের নিচের জীবন: টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র, সাগর এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসইভাবে ব্যবহার করা।
* স্থলভাগের জীবন: স্থলভাগের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, পুনরুদ্ধার এবং টেকসই ব্যবহার প্রচার করা, বন টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনা করা, মরুকরণ বিরুদ্ধে লড়াই করা, ভূমির অবক্ষয় থামানো এবং বিপরীত করা এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষয় থামানো।
* শান্তি, ন্যায়বিচার এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রচার করা, সকলের জন্য ন্যায়বিচারের প্রবেশাধিকার প্রদান করা এবং সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
* লক্ষ্য অর্জনের জন্য অংশীদারিত্ব: টেকসই উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব পুনরুজ্জীবিত করা।
এই লক্ষ্যগুলো পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে একটি ভালো এবং আরও টেকসই ভবিষ্যৎ অর্জনের জন্য একটি নীল নকশা প্রদান করে।

0 মন্তব্যসমূহ